তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার সিরিয়াস: ডা. জাহেদ
প্রকাশিত : ২২:৩৫, ৬ অক্টোবর ২০২৬
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আগ্রহী এবং বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বিগত সরকারের নেওয়া তিস্তা মহাপরিকল্পনায় মূলত নদীশাসনের বিষয়টি প্রধান ছিল। তিস্তা অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক নদীভাঙন হয় এবং কোথাও কোথাও নদীর প্রস্থ ৫ থেকে ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে যায়।
পূর্বের প্রস্তাবে নদী খনন ও পাড় বাঁধাইয়ের মাধ্যমে ভাঙন রোধ এবং ল্যান্ড রিক্লেইম বা ভূমি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা ছিল, যাতে নদীর প্রস্থ ১ কিলোমিটারে নামিয়ে এনে বিশাল চরাঞ্চল রক্ষা করা যায়। তবে বর্তমান সরকার এই পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে নদীশাসনের পাশাপাশি পানি সংরক্ষণের বিষয়টিও যুক্ত করার সম্ভাবনা যাচাই করছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী ও বিশেষজ্ঞদের সাথে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি নিজেই উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারাজের আদলে বর্ষার উদ্বৃত্ত পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে তা ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিস্তা একটি অত্যন্ত খরস্রোতা নদী হওয়ায় এখানে পানি জমিয়ে রাখা বেশ কঠিন কাজ হলেও বিশেষজ্ঞরা নতুন একটি কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। ফলে নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি পানি ধরে রাখার বিষয়টি যুক্ত করে নতুনভাবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে।
প্রকল্পের অর্থায়ন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, এই মহাপরিকল্পনার জন্য ফান্ডিং কোথা থেকে আসবে তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। চীন, বাংলাদেশ কিংবা অন্য কোনো দেশের যৌথ অর্থায়নে এটি হবে কি না—তা পরবর্তী পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, বর্তমান স্বাধীন ও সার্বভৌম সরকার জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে অর্থায়নের উৎস নির্ধারণ করবে, যা দেশের জাতীয় স্বার্থের পক্ষে সবচেয়ে বেশি সহায়ক হবে।
এমএইচ
আরও পড়ুন










